
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকা, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ – বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২ সংশোধনের প্রস্তাব আপাতত স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি জানান, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশের মতো একটি মৌলিক আইনে বড় ধরনের সংশোধনী আনা সম্ভব হবে না।
অর্থ উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেছেন, পরবর্তী নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা ও সংশোধন কার্যক্রম শুরু করা অধিক যুক্তিসঙ্গত হবে। চিঠিতে তিনি বলেছেন, "এ ধরনের আইনি সংশোধনীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন, যা পরবর্তী সময়ে আরও বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হবে।"
প্রস্তাবিত সংশোধনীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল, গভর্নরের পদমর্যাদা বৃদ্ধি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের পুনর্গঠন, শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও অপসারণ প্রক্রিয়া সংস্কার, এবং প্রজাতন্ত্রের আর্থিক দায় সৃষ্টির স্বাধীনতার বিষয়গুলো। এর পাশাপাশি, সুস্পষ্টভাবে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়া গঠন করার জন্য একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠনের প্রস্তাব ছিল, যাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও স্বায়ত্তশাসিত ও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।
অর্থ উপদেষ্টা চিঠিতে আরও বলেন, "বাংলাদেশ ব্যাংককে আরও শক্তিশালী ও স্বচ্ছ করতে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে, এটি বাস্তবায়নে আইনি পরিবর্তন আনার আগে সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।"
এদিকে, ৯ অক্টোবর গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২ সংশোধনের জন্য একটি প্রাথমিক খসড়া প্রস্তাব সরকারের কাছে পাঠিয়েছিলেন। প্রস্তাবে গভর্নরের পদে নিয়োগ ও অপসারণের জন্য তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছিল। এই কমিটির নেতৃত্বে সাবেক অর্থমন্ত্রী, পরিকল্পনা উপদেষ্টা বা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাক্তন গভর্নরদের একজনকে রাখা হয়েছিল, যাতে রাজনৈতিক প্রভাব দূর করে একটি স্বাধীন ও পেশাদার কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা যায়।
গভর্নর আরো উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন আন্তর্জাতিক মানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিস্টেম, যেমন ব্যাংক অব ইংল্যান্ড, রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, ব্যাংক অব কানাডা, সাউথ আফ্রিকান রিজার্ভ ব্যাংক এবং ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংক, যেখানে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং কার্যকর পরিচালনার চর্চা চলছে।
তবে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন এখনই করা সম্ভব নয় বলেই অর্থ উপদেষ্টা তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, এবং সংশোধনীর প্রক্রিয়া পরবর্তী সরকারের অধীনে চলতে থাকবে।